কুমিল্লা র-ণক্ষেত্র বি'স্তারিত কমেন্ট...
কুমিল্লা র-ণক্ষেত্র
কুমিল্লা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি একটি উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্র ও সামরিক ঘাঁটি ছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
গণহত্যা ও প্রতিরোধ: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী "অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন" নামে একটি নৃশংস অভিযান শুরু করে। ২৭-২৮ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১৭ জন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা এবং ৯৫৩ জন সৈনিককে হত্যা করা হয়, যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম নির্মম গণহত্যা। এই ঘটনার নীরব সাক্ষী হিসেবে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে বধ্যভূমি রয়েছে, যেমন লাকসাম রেলওয়ে জংশন কলোনি এবং দাউদকান্দি।
সেক্টর ২ এর অধীনে: মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী এলাকাটি মেজর খালেদ মোশাররফের (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) নেতৃত্বে গঠিত ২ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গেরিলা যুদ্ধ: মুক্তি বাহিনী এই অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফলভাবে অ্যামবুশ এবং গেরিলা হামলা চালায়। মীরগঞ্জ, নারাশিংহী এবং ফেনাকাটা পুল এলাকায় বেশ কয়েকটি তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে পাকিস্তানি সৈন্যদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কুমিল্লার মুক্তি: ৩রা ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী (ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনী) যৌথভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। তীব্র যুদ্ধের পর, ৭ই ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যায় এবং ৮ই ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলাকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
সামরিক সদর দপ্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী কুমিল্লা সেনানিবাসকে ১৪তম সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করত।
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি: বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) যুদ্ধে নিহত ৪৫,০০০ কমনওয়েলথ সৈনিকদের স্মরণে যে ৯টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছিল, তার মধ্যে একটি হলো কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি। এই সমাধিক্ষেত্রে মূলত ব্রিটিশ ও ভারতীয় (তৎকালীন) সৈন্যদের সমাহিত করা হয়েছিল। এখানে ৭৩৭টি কবর রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন জাপানি যুদ্ধবন্দীও ছিলেন।
কুমিল্লা তার সামরিক গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ

Comments
Post a Comment